<p><br></p>
১৭ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, ০২:০০:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের তাগিদ সিইসির সঠিক নীতি ও পরিকল্পনায় যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব: মাহদী আমিন সৈয়দপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আন্তর্জাতিক লিগে সুযোগ নিতে নিউজিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি ছাড়ছেন ব্রেসওয়েল, স্থলাভিষিক্ত নিক কেলি টেকসই আবাসন কেবল একটি ঘর নয়, এটি মানসম্পন্ন জীবনের সমষ্টি: প্রধানমন্ত্রী দেশের বাজারে ভরিতে ১,৬৯১ টাকা পর্যন্ত কমল সোনার দাম দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের পর রাজউক কর্মকর্তাদের বিদেশ পলায়ন: থমকে আছে আইনি প্রক্রিয়া সিরাজগঞ্জের বিখ্যাত আবার খাই হারিয়ে যাওয়ার পথে, জীবন সংগ্রামের শেষ প্রান্তেও আবার খাই ফেরিওয়ালা। ‎মৌলভীবাজারে নাসিরনগরের সংঘবদ্ধ নারী চোর চক্রের ৫ সদস্য আটক মোকামতলা উপজেলা পল্লী প্রাণী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল ইসলামের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ


নওগাঁয় অতিরিক্ত মুনাফার প্রলোভনে ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, মূলহোতা গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০-১১-২০২৫
নওগাঁয় অতিরিক্ত মুনাফার প্রলোভনে ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, মূলহোতা গ্রেফতার


অতিরিক্ত মুনাফার লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎকারী একটি প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।


আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর ২০২৫) ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে আত্মগোপন অবস্থায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। 

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. নাজিম উদ্দিন তনু (৩৭)। তিনি নওগাঁ জেলার জগৎসিংহপুর এলাকার বাসিন্দা এবং ‘বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন’ নামের এনজিওটির পরিচালক হিসেবে পরিচিত।


সিআইডির এলআইসি ইউনিট আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে এ অভিযান পরিচালনা করে।


মামলার বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেন, নওগাঁ সদরের অফিসপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন’ (রেজি. নং রাজ–৩৭০)–এ তিনি ও আরও বহু গ্রাহক সঞ্চয় জমা, মাসিক ডিপিএস ও এককালীন ঋণ গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেন। অনেক গ্রাহক আলাদাভাবে এককালীন আমানত হিসেবেও অর্থ জমা দেন। 


গ্রাহকদের বলা হতো—প্রতি ১ লাখ টাকার বিপরীতে মাসে ২ হাজার টাকা লভ্যাংশ পাওয়া যাবে। বাদীর নিজের আমানত ছিল ২০ লাখ টাকা। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানে মোট প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আমানত রেখেছিলেন বিভিন্ন গ্রাহক।


তদন্তে জানা গেছে, প্রথমদিকে পরিচালকদের মনোনীত কিছু গ্রাহককে নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান করা হতো, যা দেখে সাধারণ মানুষ প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আস্থা পোষণ করে এবং বিনিয়োগে আগ্রহী হয়। বিনিয়োগকারীদের অধিকাংশই ছিলেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। তবে ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে লেনদেনে অস্বচ্ছতা দেখা দিতে থাকে। বহু গ্রাহক তাদের জমাকৃত অর্থ বা ঋণের টাকার সঠিক হিসাব পাচ্ছিলেন না এবং উত্তোলনের চেষ্টায় বাধার সম্মুখীন হচ্ছিলেন।

অভিযোগ করার পর পরিচালক নাজিম উদ্দিন কিছু সময়ের আশ্বাস দিলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। গত বছরের নভেম্বর মাসে গ্রাহকরা প্রতিষ্ঠানটির অফিসে অর্থ ফেরতের দাবি জানাতে গেলে কর্তৃপক্ষ টালবাহানা শুরু করে এবং একপর্যায়ে জানিয়ে দেয়-তাদের কোনো অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। এরপর গ্রাহকদের জোর করে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়।


ঘটনার পর বাদী নওগাঁ সদর থানায় ১২ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে মামলা (নং–২০) দায়ের করেন। এতে পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এখন পর্যন্ত প্রাথমিক তদন্তে ৮০০-র বেশি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।


মামলাটি সিআইডির নওগাঁ জেলা ইউনিট তদন্ত করছে। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এখন পর্যন্ত নাজিম উদ্দিন তনুসহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তকরণ, সম্পূর্ণ অর্থপ্রবাহ উদঘাটন এবং আইনগত পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



শেয়ার করুন